বর্তমানে গুগল আমাদের জীবনযাত্রায় যেসব প্রভাব ফেলছে

এই মুহূর্তে আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে বড় জাহাজ কোনটি, বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে উন্নত রাষ্ট্র এর মানুষের মাথাপিছু আয় কেমন অথবা বর্তমানে আপনার অবস্থান কোথায় এরকম হাজারো প্রশ্নের উত্তর মুহূর্তের মধ্যেই কে আপনাকে দিতে পারে? এবার এরকম প্রশ্ন শুনে আপনার মাথায় সবার প্রথমে চলে আসতে পারে গুগল এর কথা। যে কিনা মুহূর্তের মধ্যে হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিতে পারে। তবে এরকমই হাজারো লক্ষ প্রশ্ন প্রতিনিয়ত গুগলকে করা হচ্ছে। অনবরত যার উত্তরও দেয়া হচ্ছে।

অনবরত এসব প্রশ্নের উত্তর জানাতে গুগলের রয়েছে নিজস্ব কিছু ডেটা সেন্টার। যেসব ডাটা সেন্টারের তালিকা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ও হঠাৎ কোন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য যেতে হতো পাঠাগারে। সেখানে সারিসারি বই এর মাঝে খুঁজতে হতো কাঙ্খিত তথ্যটি। তবে গেল 20 বছরে এসে সেই চিত্রের অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর কোন তথ্য খোঁজার জন্য যেতে হয় না কোন লাইব্রেরীতে। আস্ত একটা লাইব্রেরী যেন ইন্টারনেটেই রয়েছে।

যখন মন চায় খুঁজে নিতে পারা যায় কাঙ্খিত তথ্যটি। হঠাৎ যদি কোন তথ্যের প্রয়োজন হয় তখন আর সব কাজ ফেলে রেখে পাঠাগারে যেতে হয় না। হাতের কাছে একটি ইন্টারনেট সংযুক্ত মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটার থাকলে সেটাই যথেষ্ট। আপনার ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে দিচ্ছে ইন্টারনেট। এই উত্তর দেওয়ার দিক থেকে সবার প্রথমে রয়েছে মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন গুগল।

প্রতিদিন বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করা হচ্ছে গুগলকে। যেটির সঠিক উত্তর ও খুঁজে দিচ্ছে এই সার্চ ইঞ্জিনটি। মুহুর্তের মধ্যে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে বের করার জন্য গুগল কে স্থাপন করতে হয়েছে অনেক ডাটা সেন্টার। শক্তিশালী কম্পিউটার এবং সার্ভার সমন্বয়ে তৈরি করা হয় এসব ডাটা সেন্টার। অনেকগুলো সার্ভার নেটওয়ার্ক কম্পিউটার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো। এরপর গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্যটি তুলে দেওয়া হয় তার কাছে।

বিশ্বে মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তথ্য অনুসন্ধান এর সংখ্যাও। বাড়তি অনুসন্ধানের তথ্য সরবরাহ করার জন্য তারাও প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। যার কারণে গুগল বর্তমানে পৃথিবীর প্রথম জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এবং প্রথম জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন।

গুগল হল ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাদানকারী একটি আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গুগল সার্চ ছাড়াও গুগল এর রয়েছে আরও অনেক সেবা। এসবের মধ্যে যেমনঃ কাজ ও প্রোডাক্টিভিটি সেবা হিসেবে রয়েছে গুগল ডক, শিট ও স্লাইড, ইমেইল/জিমেইল, সময়সূচী ও সময় ব্যবস্থাপক এর জন্য গুগল ক্যালেন্ডার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রয়েছে গুগল+, ক্লাউড স্টোরেজ এর জন্য গুগল ড্রাইভ, ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং এবং ভিডিও চ্যাট করার জন্য রয়েছে গুগল এলো/ডুও/হ্যাংআউট, পৃথিবীর যেকোন ভাষাকে অনুবাদ করার জন্য অনুবাদক হিসেবে রয়েছে গুগল ট্রান্সলেট, কোন জায়গার অবস্থান জানার জন্য মানচিত্র (গুগল ম্যাপস/ওয়েজ/আর্থ/স্ট্রিট ভিউ), জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ‘ইউটিউব’, গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কোনো কিছু লিখে রাখার জন্য বা নোট নেওয়ার জন্য (গুগল কিপ), এবং ছবি ব্যবস্থাপক বা সংরক্ষণের জন্য (গুগল ফটোজ) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

গুগল সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে প্রায় এক মিলিয়ন সার্ভার চালায়। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কোটি এর বেশি অনুরোধ আসে কোন কিছু অনুসন্ধান করার জন্য। অনবরত যেসব অনুরোধের ফলাফলও দেওয়া হচ্ছে নিমিষেই। যা গুগলকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা ওয়েবসাইটের তালিকায় স্থান দেয়। যদিও অনেক কারণে গুগলের সমালোচনা ও কম নয়। গুগলের আধিপত্য নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যেমন কপিরাইট, গোপনীয়তা এবং সেন্সরশিপ প্রভৃতি।

১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন গুগলকে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই গুগল অনেক জনপ্রিয় একটি সাইট হয়ে যায়। যেটি পরবর্তীতে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় ২০০৪ সালের ১৯শে আগস্ট। পরবর্তীতে সময় যাবার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যনতুন পণ্য ও সেবা যোগ করে গুগল প্রতিনিয়ত নিজেদের আকার ও উপযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। গুগল একই সঙ্গে নতুন আরো প্রতিষ্ঠানকে কিনে নিয়ে নিজেদের সঙ্গে একত্রিত করেছে।

তারা একই সঙ্গে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারত্ব ও বিজ্ঞাপণ বাজারে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ়ীকরণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। যার ফলে বর্তমানে কোন তথ্য খোঁজার পাশাপাশি বর্তমানে ইমেইল, অফিস প্রোডাক্টিভিটি, সামাজিক নেটওয়ার্কিং, ভিডিও শেয়ারিং প্রভৃতি বিষয়ে গুগলের সেবা রয়েছে। যেটাকে গুগলের আধিপত্য বলা চলে। চলুন বন্ধুরা এবার তবে জেনে নেওয়া যাক গুগল আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে।

গুগল আমাদের জীবনযাত্রার মানের কতটা প্রভাব ফেলেছে

গুগল যে আমাদেরকে কতভাবে বর্তমান সময়ে সাহায্য করছে সেটি আমরা লক্ষ্যই করি না। আমাদের প্রতিদিনের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে অফিসে যাওয়া এবং দিনের সকল কার্যাবলী সম্পাদন করার মাঝে গুগল আমাদেরকে অনেক ভাবে সাহায্য করেছে। চলুন তবে একে একে গুগলের কয়েকটি সেবা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ইউটিউব :

ইউটিউব
ইউটিউব

ইন্টারনেট ব্যবহার করে অথচ ইউটিউব এর নাম শোনেননি এমন কেউ হয়তোবা নেই। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট হচ্ছে ইউটিউব। পেপ্যালের তিন প্রাক্তন কর্মচারী চড হারলি, স্টিভ চেন, এবং জাওয়েদ করিম সর্বপ্রথম এ সাইটটি তৈরী করে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। যা পরবর্তীতে তারা গুগলের কাছে ২০০৬ সালের নভেম্বরে ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি করে দেয়। তখন থেকে ইউটিউব বর্তমানে গুগলের অন্যতম অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।

যা বর্তমানে গুগল এর বিজ্ঞাপণ থেকে আয় করার প্রধান মাধ্যম ও বটে।

গুগল তাদের ইউটিউব ব্যবহারকারীদের এ প্ল্যাটফর্মটিতে ভিডিও আপলোড, দেখার সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি কোন ভিডিওতে রিপোর্ট করা, ভিডিও এর শেষে কোন comment লিখে দেওয়া, ভিডিও শেয়ার করা সহ ভিডিও ডাউনলোড করে রাখার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। এছাড়া একজন ব্যবহারকারী যত ইচ্ছা এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের সাবস্ক্রাইব করতে পারে। যে কেউ ইচ্ছা করলেই এ প্ল্যাটফর্মটিতে তার অভিজ্ঞতা কিংবা সৃষ্টিশীল কোন কিছুর ওপর ভিত্তি করে ভিডিও আপলোড করতে পারে।

ইউটিউবে বর্তমানে উপলভ্য সামগ্রীর মধ্যে ভিডিও ক্লিপ, কোন টিভি শো এর অংশবিশেষ, চলচ্চিত্র সঙ্গীত থেকে শুরু করে নিয়ে যাবতীয় শিক্ষামূলক এবং বিনোদনমূলক অন্যান্য সকল ভিডিও পাওয়া যায়। মোট কথা বলতে গেলে ইউটিউবে প্রায় সকল ধরনের ভিডিও পাওয়া যায়। ইউটিউবে বেশিরভাগ ভিডিও ব্যক্তিগতভাবে আপলোড করা হয়। নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা কেবলমাত্র এ সাইটটিতে ভিডিও দেখতে পারে। এ প্লাটফর্মে কোনো ভিডিও আপলোড করতে হলে তাকে অবশ্যই একটি চ্যানেল তৈরি করতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা খুব কঠিন কোন কাজ নয়। যে কেউ ইচ্ছা করলেই তার হাতে থাকা একটি স্মার্টফোনটি দিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারে।

ইউটিউবে শুধু ভিডিও দেখাই নয়, সীমাহীন সংখ্যক ভিডিও আপলোড এবং ভিডিও গুলিতে মন্তব্য করার অনুমতিও রয়েছে ব্যবহারকারীদের জন্য। ইউটিউবে সব ধরনের মানুষের জন্য ভিডিও রয়েছে। তবে কিছু ভিডিও দেখার জন্য অবশ্যই ব্যবহারকারীকে 18 বছরের উপরে বয়স হতে হয়। এগুলো সেইসকল ভিডিও যেগুলোতে 18+ কনটেন্ট রয়েছে। কোন ভিডিও 18 প্লাস হলে সেটি সেই ভিডিওর কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইউটিউবে সেই ভিডিওটি আপলোড করার সময় সিলেক্ট করে দেয়। ইউটিউব সে অনুযায়ী বয়সভেদে সে ভিডিওটি তাকে দেখার অনুমতি দেয় না। এছাড়া তার বয়স যদি তার চাইতে বেশী ও হয় তবুও তার থেকে সেই ভিডিও দেখার জন্য সতর্ক করবে।

বর্তমান সময়ে ইউটিউব আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী বলতে গেলে। তা হঠাৎ যদি আপনি আপনার কম্পিউটারে কোন একটি সেটিং ঠিক করার দরকার পড়ে তখন খুব সহজেই ইউটিউবে গিয়ে সেই বিষয়টি লিখে সার্চ করলেই চলে আসে অনেক ভিডিও। যেগুলোর মধ্যে থেকে খুব সহজেই খুঁজে নেয়া যায় কাঙ্খিত সমস্যাটির সমাধান। শুধু মোবাইল কিংবা কম্পিউটার এর সমস্যার সমাধানই নয়, বরং ইউটিউবে রয়েছে শিক্ষা, বিনোদন, সংবাদ থেকে শুরু করে আরো অনেক বিষয় নিয়ে ভিডিও। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রাকে অনেকটাই সহজ করেছে।

ইউটিউব এ শুধু নিজের সমস্যার সমাধানই নয়, বরং এতে রয়েছে অর্থ আয় করার উপায়ও। অনেকেই ইউটিউব কে বেছে নিয়েছে নিজের জীবিকার মাধ্যম হিসেবে। যে কেউ ইচ্ছা করলেই ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে অর্থ আয় করতে পারে। তবে এজন্য অবশ্যই ইউটিউব এর গাইডলাইন অনুযায়ী ভিডিও হতে হবে। ইউটিউবে তাদের গাইডলাইন মেনে ভিডিও আপলোড করে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অর্থ উপার্জন করে থাকে।

ইউটিউব গুগল অ্যাডসেন্স থেকে বিজ্ঞাপণ ইউটিউবের ভিডিওতে প্রদর্শন করায়। গুগল এডসেন্স এটি এমন একটি প্রোগ্রাম যা সাইটের সামগ্রী এবং শ্রোতা অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করে থাকে। কোন ব্যবহারকারীকে কোন ধরনের বিজ্ঞাপণ দেখাতে হবে সেটি ঠিক করে গুগল। ইউটিউবের বেশির ভাগ ভিডিও সবার দেখার জন্য উন্মুক্ত।

ফেব্রুয়ারি ২০১৭-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউটিউবে প্রতি মিনিটে ৪০০ ঘন্টারও বেশি সময়ের ভিডিও আপলোড হতো যা পরবর্তীতে দুই বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে হয়ে দাঁড়ায় প্রতি মিনিটে ৫০০ ঘন্টারও বেশি। ভিডিও আপলোড করার যে হিসাব প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে দিনকে দিন ইউটিউব এর জনপ্রিয়তা কতটা বাড়ছে।

যদিও ইউটিউবে যে কেউ ইচ্ছা করলে যেকোনো ধরনের ভিডিও আপলোড করতে পারে। তবে সেটি যেন কোনোভাবেই অন্যের ভিডিও না হয়। ইউটিউব আপলোড করা ভিডিওর মধ্যে যদি কোন কপিরাইট যুক্ত ভিডিও ক্লিপ থাকে তবে অবশ্যই গুগল সেই চ্যানেলকে নোটিশ করবে। এখানে কপিরাইট এর ধরন অনুসারে একটি চ্যানেলে তিনটি স্ট্রাইক আসলে সেই চ্যানেলটি আজীবনের জন্য ইউটিউব থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি কোন কারণে ভুলবশত কেউ সেই চ্যানেলে কোন ভিডিও কপিরাইট এ দাবি করে এবং ইউটিউব যদি সেই ভিডিওতে স্ট্রাইক দেয় তবে ইউটিউব এর কাছে আবেদন করে সেটি আবার তুলে নেওয়া যায়।

ইউটিউব শুধুমাত্র কপিরাইট ভিডিও এর জন্য কাজ করে না। যদি ইউটিউবে এমন কোন ভিডিও আপলোড করা হয় যে সেটিতে মিথ্যা কোন তথ্য অথবা ষড়যন্ত্র মূলক তথ্য রয়েছে সেটি ইউটিউব রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অপসারণ বা স্থগিত করে থাকে। এছাড়া এখানে আরো একটি বিষয় জানিয়ে রাখা দরকার। ইউটিউবে তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের ভিডিও আপলোড করা যায়। তবে তাদের গাইডলাইনের বাইরে যদি কোন যৌন নির্যাতন কিংবা সেক্সুয়াল কোন বিষয় নিয়ে খোলামেলা ভিডিও তৈরি করা হয় তবে সেটি ইউটিউব অপসারণ করে দেয়। যে কারণে ইউটিউব এ সেক্সুয়াল জন্য কোন বিষয় নিয়ে ট্যাগ, টাইটেল কিংবা ডেস্ক্রিপশন ভিডিওতে দেওয়া যায় না।

বলতে গেলে ইউটিউব আমাদের জন্য একটি নিরাপদ ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। এখানে আমরা আমাদের পছন্দ অনুযায়ী চাহিদার ভিডিও গুলো পেয়ে যাচ্ছি। আর এখানে একজন ভিডিও নির্মাতা ও অর্থ আয় হবার কারণে তার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। এখানে ইউটিউব ব্যবহারকারী এবং ভিডিওর কনটেন্ট ক্রিয়েটর উভয়ই লাভবান হচ্ছে। যা অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে। গুগলের ইউটিউব থেকে আয় করার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে গুগল এডসেন্স।

গুগল মেইল বা জিমেইল সেবা :

গুগল মেইল বা জিমেইল সেবা
গুগল মেইল বা জিমেইল সেবা

ইন্টারনেট ব্যবহার করে অথচ মোবাইলে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা নেই এমন কাউকে হয়তোবা খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারীকে প্রথমেই একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। গুগল মেইল গুগলের একটি সার্ভিস যা জিমেইল নামে পরিচিত।

বর্তমানে আমরা যে ইমেইল করে থাকি এটি গুগলের একটি সেবা। গুগলের বর্তমানে gmail.com ডোমেইন টি ছিল বিনামূল্যে ইমেইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গারফিল্ড (Garfield.com)। যা পরবর্তীতে নিয়ে নেয় গুগল। যে ডোমেইন নামটি দিয়ে বর্তমানে আমরা মেইল করছি। http://www.gmail.com ডোমেইন নামটি নেবার পর শুরুর দিকে জিমেইলের ইউআরএল ছিলো gmail.google.com/gmail যা পরবর্তীতে রিডাইরেক্ট করে http://mail.google.com/maill করা হয় ২০০৫ সালের ২২ জুনে। জিমেইল শুরুর দিকে শুধুমাত্র গুগলের কর্মীদের ব্যবহারের জন্য ছিলো। যা পরবর্তীতে সবার মাঝে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল।

জিমেইল মূলত ব্যবহার করা হয় কাউকে মেইল করার কাজে। যেটি অতীতের চিঠির মত কাজ করে। এখানে একজন প্রেরক এবং একজন প্রাপক থাকে। আগেকার দিনে কাউকে চিঠি লিখলে যেমন তার নাম এবং ঠিকানা টি লিখে দিতে হতো এখানেও ঠিক একই রকমভাবে চিঠির মত লিখতে হয়। এখানে যাকে সেই মেইলটি পাঠানো হবে তার জিমেইল এড্রেস প্রাপক এর ঘরে লিখতে হয়। জিমেইল এর মাধ্যমে ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা কোন লেখা পাঠানো যায়।

জিমেইলে স্প্যাম মেইল ফিল্টার সম্পাদনা

জিমেইল ব্যবহার করা হয় মূলত মেইল আদান প্রদানের ক্ষেত্রে। তবে এখানে অনেক ক্ষেত্রে অনেক স্প্যাম মেইল আসতে পারে। তবে গুগলের জিমেইলে রয়েছে শক্তিশালী ফিল্টার সুবিধা। এখন পর্যন্ত সকল webmail সার্ভিস প্রোভাইডার দের মধ্যে সবচাইতে ভালো স্প্যাম ফিল্টার আছে বলে ধারণা করা হয়। এতে করে কোন ব্যবহারকারীকে বিরক্তি পোহাতে হয় না। একবার যদি কোন একটি প্রেরক কে স্প্যাম হিসেবে শনাক্ত করে রাখা হয় তবে পরবর্তীতে তার কাছ থেকে যেসব মেইলগুলো আসবে সেগুলো সব স্প্যাম ফোল্ডারে জমা হয়ে থাকবে। যার ফলে অনেকটাই এসব বিরক্তিকর স্প্যাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

এছাড়া জিমেইলে রয়েছে সার্চ করার অপশন। শুরু থেকেই জিমেইলের সার্চ করার অপশন ছিল। যেটি ব্যবহার করার মাধ্যমে ইমেইল খোঁজার কাজটি অনেক সহজ হয়।

ইমেইল বর্তমান সময়ের একটি আধুনিক তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ফটো এবং ভিডিও এর কোয়ালিটি ঠিক রেখে প্রেরন করা যাচ্ছে ইমেইলের মাধ্যমে। যেটি কিন্তু একজন গুগল ব্যবহারকারীর জন্য অনেক বড় একটি পাওয়া। যা আমাদের জীবনযাত্রার মানকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

গুগল ড্রাইভ :

যারা নিজের কোন তথ্য নিরাপদে রাখার জন্য অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করেন তারা নিশ্চয় গুগল ড্রাইভ এর কথা শুনে থাকবেন। এমনকি আমরা সকলেই প্রায় গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে থাকি কম কিংবা বেশি।

গুগল ড্রাইভ
গুগল ড্রাইভ

গুগল ড্রাইভ হচ্ছে গুগল কর্তৃক তৈরিকৃত ফাইল স্টোরেজ ও সিনক্রোনাইজেশন সেবা। গুগল এটির এর যাত্রা শুরু করে এপ্রিল ২৪, ২০১২ সালে। মূলত যখন একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয় তখনই সে একাউন্ট এর অধীনে 15 জিবি স্টোরেজ দেওয়া হয়। যেখানে গুগল ড্রাইভের স্টোরেজ ও রয়েছে। এটি একজন গুগল ড্রাইভ ব্যবহারকারীকে তার কোনো ফাইল সেখানে সংরক্ষণ এবং সেটি কারো মাঝে শেয়ার করার সুবিধা প্রদান করে।

গুগল ড্রাইভে শুধু কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোন থেকে ছবি কিংবা ভিডিও আপলোড করা গুলোই সংরক্ষণ করা যায় না। গুগল ড্রাইভে গুগলের অন্যান্য সেবার ফাইলগুলোও আপলোড করে রাখা যায়। এরমধ্যে যেমন গুগল ডক, গুগল শিট এবং গুগল স্লাইডে তৈরিকৃত ফাইলগুলো এখানে সংরক্ষিত থাকে। গুগল ড্রাইভ একজন ব্যবহারকারীকে ফ্রিতে সর্বোচ্চ 15 গিগাবাইট স্টোরেজ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এর চাইতে বেশী ফাইল আপলোড করে রাখতে চাইলে অবশ্যই সেই স্টোরেজ টি কিনে নিতে হবে।

যদিও আমাদের জন্য এই 15 জিবি ই যথেষ্ট হয়। যদি কোন কারণে আমাদের অতিরিক্ত ফাইল রাখার দরকার পড়ে সে ক্ষেত্রে আমরা একাধিক জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারি। গুগলের এই 15 জিবি স্টোরেজ গুগল ড্রাইভ এবং জিমেইল উভয় জায়গায় ব্যবহার হয়। আপনি আপনার জি-মেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে ইন্টারনেটে যত ব্রাউজ করছেন এবং সেসবের যত তথ্য জমা থাকে সেগুলো সব সেই 15 গিগাবাইট স্টোরেজে থাকে। এক্ষেত্রে কেউ আপনাকে মেইল করলে সেটিও এর মধ্যে পড়ে।

বর্তমানে একটি জিমেইল একাউন্ট খুললে সেখানে 15 জিবি ফ্রী পাওয়া যায়। যেখানে কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিরাপদে ব্যাকআপ করে রাখা যায়। তবে শুরুতে যখন এর জিমেইল চালু হয় তখন ফ্রিতে স্টোরেজ ছিল 1 গিগাবাইট মাত্র। যা পরবর্তীতে 2 এবং তার পরবর্তীতে 4 গিগাবাইট পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে যেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে 15 জিবি তে। একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে তার অধীনে 15 জিবি স্টোরেজ পাওয়া যায়। যেখানে একজন ব্যবহারকারী তার গুরুত্বপূর্ণ কোন ফাইল ব্যাকআপ করে রাখতে পারে এবং এটি পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে আবার সংগ্রহ করতে পারে।

গুগলের এই 15 জিবি ফ্রি স্টোরেজ কিন্তু আমাদেরকে অনেকটাই উপকার করে। যদিও এর পাশাপাশি ইচ্ছা করলেই স্টোরেজ আরো বাড়িয়ে নেওয়া যায়। তবে এজন্য গুগলকে মাসিক ফি দিতে হয়। এক্ষেত্রে ২৫ গিগাবাইটের জন্য মাসিক ২.৪৯ ডলার এবং ১৬ টেরাবাইট এর জন্য মাসিক ৭৯৯.৯৯ ইউএস ডলার গুগলকে পে করতে হয়। যদিও আমাদের মত সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের এই 15 জিবিই অনেক বেশি। আমাদের মত কোন ব্যবহারকারীর যদি অতিরিক্ত কোন দরকার পড়ে তবে একাধিক জিমেইল আইডি ব্যবহার করলেই চলে।

যাইহোক, গুগল ড্রাইভ আমাদের জন্য অনেক বড় উপকারী। আমরা ইচ্ছে করলে যেকোন ভিডিও, অডিও কিংবা কোন ছবি সংরক্ষণ করে রাখতে পারছি সেখানে। এছাড়া ইচ্ছা করলেই যে কাউকে সে ভিডিও কিংবা ছবিটির লিংক শেয়ার করতে পারছি। সে ইচ্ছা করলেই সে লিংক থেকে সেই তথ্যটি ডাউনলোড করে নিতে পারছে। এছাড়া কোনো দুর্ঘটনা ক্রমে যদি আমাদের ফোনটি নষ্ট হয়ে যায় কিংবা হারিয়ে যায় এক্ষেত্রে আমরা সেই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো গুগল ড্রাইভ থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারি।

গুগল ম্যাপস :

 

গুগল ম্যাপস
গুগল ম্যাপস

কোন অপরিচিত জায়গায় গেলে অথবা কোথাও যাবার জন্য বের হলে গন্তব্যের সঠিক পথ চেনাতে সহায়ক হয় গুগল ম্যাপ। যেটি আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রা সঙ্গে অনেকটাই মিশে গিয়েছে। আপনি যদি কোনো অপরিচিত জায়গায় যেতে চান তবে আপনাকে সে জায়গা চেনাতে সাহায্য করবে গুগল ম্যাপ। আপনার সেই গন্তব্যে যেতে কত সময় লাগবে, কোন পথে গেলে তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন এবং সেখানে যাবার সময় পায়ে হেঁটে কিংবা গাড়িতে করে যেতে কত সময় লাগতে পারে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আপনাকে দিয়ে দিবে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে গুগলের তৈরি গুগল ম্যাপস আমাদের কতটা উপকার করে থাকে আমাদের প্রতিদিনের কাজে।

গুগল ম্যাপস নিয়ে আমার পূর্ণাঙ্গ একটি টিউন রয়েছে। আপনারা চাইলে সেটিও দেখে আসতে পারেন। সেটি দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

গুগল ট্রানসলেশন :

গুগল ট্রানসলেশন
গুগল ট্রানসলেশন

‘গুগল ট্রানসলেশন’ গুগল এর আরেকটি যুগান্তকারী সেবা। যে সেবাটির কারণে আজ কথা বলা যায় যে কোন দেশের যেকোন ভাষার মানুষের সঙ্গে। গুগল ট্রান্সলেট যেটি এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করতে পারে। গুগল অনুবাদ এ রয়েছে বর্তমানে ১০৯টি ভাষা। যেখানে এদের মধ্যে যেকোনো একটি ভাষা থেকে অন্য ভাষায় সঠিকভাবে অনুবাদ করা যায়। গুগল অনুবাদ ব্যবহার করে কোন একটি শব্দ থেকে শুরু করে অনেকগুলো বাক্য একসঙ্গে অনুবাদ করা যায়।

এ সেবাটি শুধুমাত্র অ্যাপ কিংবা তাদের ওয়েবসাইট এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে কোন ওয়েবসাইটে গেলে সেখানে এ ফিচারটি ব্যবহার করে সেই ওয়েবপৃষ্ঠাটি ও অনুবাদ করা যায়। এক্ষেত্রে সেই ওয়েবসাইটটি যদি হয় অন্য কোন দেশের এবং সেটি যদি লেখা হয় সে দেশের নিজস্ব ভাষায় তবুও গুগলের এই অনুবাদ সেবা ব্যবহার করার মাধ্যমে সে পৃষ্ঠাটিকে নিজের দেশের এবং নিজের ভাষায় অনুবাদ করে দেখা যায়।

কোন ব্যক্তি যদি কোন তথ্য খোঁজার জন্য ইন্টারনেটে সার্চ করে নিজের দেশের ভাষায় এবং সেখানে যদি তার মনের মতো কোনো আর্টিকেল খুঁজে না পায় তবে এখানে তার হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং সে বিষয়ের ওপর কোনো আর্টিকেল যদি অন্য কোন দেশ থেকে ইংরেজিতেও লেখা হয় এবং আপনি যদি ইংরেজী নাও জানেন এক্ষেত্রে সেই ওয়েবসাইটে গুগলের এই অনুবাদ সেবাটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকটি ব্রাউজারে গুগল ট্রান্সলেট এর অনুবাদ সেবাটি রয়েছে। ভিন্ন ভাষার ওয়েবসাইটকে নিজের ভাষায় খুব স্বাচ্ছন্দেই পড়া যায় এই গুগল অনুবাদক ব্যবহার করার মাধ্যমে।

গুগলের এই অনুবাদ সেবাটির মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই ভিন্ন ভাষার কিংবা ইংরেজি থেকে খুব সহজেই বাংলা অনুবাদ করতে পারছি। যারা ইংরেজী কম জানি অথবা জানেই না, এক্ষেত্রে তারা এটির মাধ্যমে অনেক উপকৃত হচ্ছে। গুগলের তৈরি এই গুগল অনুবাদক আমাদের জীবনযাত্রার মানকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

গুগল ফটোজ :

গুগল ফটোজ
গুগল ফটোজ

গুগল ফটোজ গুগলেরই আরো একটি সেবা। যেখানে একজন ব্যবহারকারী নিজের ফটো গুলোকে ব্যাকআপ করে রাখতে পারে। পরবর্তীতে সে তার প্রয়োজন অনুসারে যে কোন ডিভাইস থেকে লগইন করে সেগুলো ডাউনলোড করে নিতে পারে। যদিও গুগল ফটোজ এ কিছুদিন আগ পর্যন্তও আনলিমিটেড ফটো রাখার সুবিধাটি ছিল। যে সুযোগটি বর্তমানে আর নেই। তবে এখানে আপনার জিমেইল একাউন্ট এর অধীনে থাকা 15 জিবি স্টোরেজ এর ভেতরে আপনি যত ইচ্ছা ছবি আপলোড করে রাখতে পারেন। এবং প্রয়োজন অনুসারে সেটা যেকোন সময় ডাউনলোড করা যেতে পারে।

গুগল ফটোজ ব্যবহারের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিগত মুহূর্ত কিংবা অনেক স্মরণীয় ছবি সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে, যেগুলো সেখানে আজীবন সংরক্ষিত থাকবে যদি সেখান থেকে ডিলিট করা না হয় এবং সেইসঙ্গে সেটি যে কোন ডিভাইস থেকে লগইন করে আবার সেখান থেকে অ্যাক্সেস করা যাবে।

বিজ্ঞাপণের বাজারে গুগল :

গুগলের মোট আয় এর ৯৯% আয় আসে বিজ্ঞাপণ খাত থেকে। গুগল অনলাইন বিজ্ঞাপণ বাজারে বিভিন্ন নতুন মাত্রা যোগ করে অন্যান্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকে। গুগল ব্যবহারকারীর পছন্দ বয়স এবং অবস্থান অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করায়। গুগল ব্যবহারকারীদের আগ্রহ অনুযায়ী ডাবলক্লিক কোম্পানীর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে। গুগল এন্যালিটিকস এমন একটি প্রযুক্তি যা ওয়েব সাইটের মালিকগন ব্যবহার করে থাকেন।

বিজ্ঞাপণের বাজারে গুগল
বিজ্ঞাপণের বাজারে গুগল

কোন একজন ব্যক্তি সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে কোথায় এবং কিভাবে তাদের ওয়েব সাইট ব্যবহার করে থাকে, উদাহরণ সরূপ বলা যায়, সেই ওয়েবসাইট এর কোন পৃষ্ঠার সকল লিংকের মধ্যে কোনগুলোতে ক্লিক বেশি পড়েছে তা জানা যায় ক্লিক রেটের মাধ্যমে।

ব্যবহারকারীদের পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ দেখাতে গুগল তাদের ব্যক্তিগত তথ্যগুলো সংগ্রহ করে। গুগলের মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞাপণ দেওয়ার জন্য গুগলের এ্যডওয়ার্ডস এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ প্রদানকারীরা কস্ট পার ক্লিক অথবা কস্ট পার ভিউ দুটির একটি ব্যবহার করে। এই দুইটি শর্তে যে কেউ গুগল নেটওর্য়াকে বিজ্ঞাপণ দিতে পারে।

এছাড়া বিজ্ঞাপণ দেওয়ার পাশাপাশি গুগলের এই বিজ্ঞাপণ পদ্ধতি থেকেও যে কেউ আয় করতে পারে। যেটি গুগল অ্যাডসেন্স নামে পরিচিত। গুগল এ যারা বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে তাদের বিজ্ঞাপনগুলো কোন ওয়েবসাইটে নয়তো বা কোন ভিডিওর মাঝে প্রদর্শন করতে হয়। আর কোন ব্লগ কিংবা ইউটিউব ভিডিও একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৈরি করে অর্থ আয়ের জন্যই। এখানে গুগল সে সব ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপণ দেখানোর মাধ্যমে তাদেরকে নির্দিষ্ট একটি অ্যামাউন্ট দিয়ে থাকে। ওয়েব সাইট মালিকরা তাদের ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপনগুলো দেখাতে পারেন এবং তা থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

এক্ষেত্রে গুগল বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে তাদের থেকে ব্যক্তিগত তথ্যগুলো সংগ্রহ করে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য গুলো অনুযায়ী গুগল তাদের কাছে বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করে। এ নিয়ে কথা আমার আগের একটি টিউন রয়েছে আপনারা চাইলে সেটি দেখে আসতে পারেন। কেন এবং কিভাবে গুগল আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখায়।

যদিও বিজ্ঞাপণ না থাকলে অনলাইন প্লাটফর্মে আমরা কোন কিছুই ফ্রিতে দেখতে পারতাম না। সকল কিছু ব্যবহারের জন্য আমাদেরকে টাকা দিতে হতো। যেমনটি বর্তমানে অনেক প্রিমিয়াম সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এখানে গুগল বিজ্ঞাপণ প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদেরকে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে সেবা দিয়ে থাকে। তবে গুগল এরও কিছু প্রিমিয়াম সেবা রয়েছে। তার মধ্যে যেমন আমাদের পরিচিত ইউটিউব এর কথাই বলা যায়। যেখানে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রাইব করার মাধ্যমে আমরা বিজ্ঞাপণ মুক্ত ভিডিও দেখা, কোন ভিডিও কে ব্যাগ্রাউন্ডে চালানো সহ আরো কিছু সুবিধা রয়েছে। আমাদের ফ্রিতে সেবা দিয়ে ঠিকই আমাদের থেকে টাকা আয় করে নিচ্ছে।

শেষ কথা :

গুগল আমাদের জীবনযাত্রার মানকে অনেকটাই উন্নত করেছে। প্রতিদিনের চলার মাঝে অনেক জায়গায় আমরা গুগলকে এবং এর সেবা সমূহ কে ব্যবহার করে থাকি। যা হয়তোবা আমরা লক্ষ্যই করি না। গুগল প্রতিনিয়ত আমাদেরকে নতুন নতুন সেবা উপহার দিয়ে যাচ্ছে। তবে গুগলের এসব প্রত্যেকটি বিষয়ের উপরে থাকে একটি ব্যাবসায়িক কৌশল। যা আমরা বুঝতেই পারিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *